বৃহস্পতিবার | ১৮ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

বানিয়াচং উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামিলীগ ৩ প্রার্থীর মনোয়ন দাখিল; ত্রিমুখী লড়াইয়ে সম্ভবনা।।

প্রকাশিত :


বানিয়াচং উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিন হেভিওয়েট প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেছেন। ত্রিমুখী লড়াইয়ে সম্ভবনা আছে বলে ভোটারদের ধারণা। মনোনয়ন দাখিলের আগ থেকেই মাঠে ময়দানে চষে বেড়াচ্ছেন।

ষষ্ঠ উপজেলা নির্বাচন কে সামনে রেখে বানিয়াচং উপজেলার আওয়ামিলীগের তিন প্রার্থী মাঠে নেমে পড়েছেন। দিনরাত বিরামহীন ভাবে চালাচ্ছেন প্রচার প্রচারণা।

আগামী ৮ মে বানিয়াচং উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচন দলীয় প্রতীক থাকলেও এবার থাকছে না কোন দলীয় প্রতীক। তাই এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের একাধিক প্রার্থী মাঠে নেমে পরেছেন।

আওয়ামীলীগের ৩ জনের প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেছেন, পছন্দের প্রতীকও চেয়েছেন।

৩ জন প্রার্থী আলাদা প্রতীক চেয়েছেন তাই মার্কা নিয়ে কোন সমস্যা নেই।

তাই বলা যায় যে, ৩জন প্রার্থী পছন্দের প্রতীক বরাদ্দ পাবেন। কারন সবাই আলাদা প্রতীক চেয়েছেন।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানাযায়, আমীর হোসেন মাস্টার ঘোড়া প্রতীক, ইকবাল হোসেন খান আনারস ও আবুল কাশেম চৌধুরী মোটর সাইকেল প্রতীক চেয়েছেন।

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বানিয়াচং উপজেলায় মূলত এই ৩ জনের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে এটাই সাধারণ ভোটারদের ধারণা।

বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কাশেম চৌধুরী, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন খান ও উপজেলা আওয়ামীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আমীর হোসেন মাস্টার নির্বাচনে প্রার্থীতা মনোনয়ন দাখিল করেন।
বিএনপি থেকে সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ বশির আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক নকিব ফজলে নকিব মাখনের নাম শোনা যাচ্ছিল। তবে তাদের প্রার্থী হওয়া না হওয়া দলীয় সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছিল।

কিন্তু বিএনপি কেন্দ্রীয় ভাবে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবে না বলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। তাই বানিয়াচং উপজেলা পরিষদ নির্বাচন এখন আওয়ামিলীগ বনাম আওয়ামিলীগ।

বানিয়াচং উপজেলা পরিষদ ১৫ টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত।
উপজেলায় ভোটার সংখ্যা প্রায় ৩ লক্ষাধিক।
নির্বাচন তফসিল ঘোষণার সাথে সাথে নতুন পুরাতন প্রার্থীরা মাটে নেমে পড়েছেন।

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের সভা সমাবেশ করে তারা ভোট প্রার্থনা করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ও সরব তারা।

সমর্থক ও দলীয় নেতাকর্মীরা পছন্দের প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এবার উপজেলা নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকায় উপজেলা পর্যায়ে অনেক নেতা কর্মী প্রার্থী হবেন এমন ঘোষণা ও দিয়ে রেখেছিলেন। অবশেষে আওয়ামীগের ৩ হেভিওয়েট প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেছেন।

ইতিমধ্যেই পোষ্টার ব্যানার দিয়ে নিজেদের প্রার্থীতা জানান দিচ্ছিলেন।

পরিক্ষিত রাজনৈতিক ব্যক্তিরা এবারও আওয়ামীগের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন।

ত্যাগী আওয়ামীগ নেতা আমীর হোসেন মাস্টার দীর্ঘদিন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এমপি টিকেট চেয়েও পাননি তিনি। ২০১৪ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি হেলিকপ্টার প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেছিলে। তিনি ৩য় স্থানে ছিলেন। এবারও তিনি প্রার্থী হয়েছেন। প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সভাসমাবেশ চালিয়ে যাচ্ছেন।
আমীর হোসেন মাস্টার তিনি বানিয়াচং আওয়ামীগের দুর্দিনের কান্ডারী বলে নেতাকর্মীদের দাবী। তিনি দীর্ঘদিন বানিয়াচং আওয়ামিলীগ কে আগলিয়ে রেখেছেন। ক্ষমতার মোহ কোন দিন গ্রাস করতে পারেনি তাঁকে। নিজের সব কিছু উজার করে তিনি রাজনৈতি করে যাচ্ছেন বলে সবার কাছে তিনি গ্রহণ যোগ্য মানুষ।

তিনি ছাত্র অবস্থায় অনেকবার জেল খেটেছেন, তারপরও তিনি বানিয়াচং আওয়ামীগ কে আগলে রেখেছেন।
আমীর হোসেন মাস্টার দীর্ঘদিন বানিয়াচং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে সুনামের সাথে শিক্ষকতা করেছেন।

আওয়ামিলীগের নেতাকর্মীদের কাছে স্যার নামে বেশ পরিচিত তিনি। বানিয়াচং উপজেলা দলমত নির্বিশেষে সবার কাছে একজন সম্মানিত ব্যক্তি তিনি। মহান মুক্তিযুদ্ধে সম্মুখ সমর যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন। তিনি দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে চাওয়া পাওয়ার হিসেব করেননি বলে অনেকের দাবী। তিনি এবারও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে গ্রামে গঞ্জে চষে বেড়াচ্ছেন। মানুষের কাছে শেষবারের মতো ভোট প্রার্থনা করছেন তিনি।

অপরদিকে পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন খান তিনিও আনারস প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে ২য় অবস্থানে ছিলেন। তিনিও এবারের নির্বাচন কে সামনে রেখে জোরেসোরে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। সাধারণ মানুষের কাছে তিনিও বেশ জনপ্রিয়।
মানুষের বিপদ আপদে পাশে পান বলে সাধারণ মানুষের দাবী। তিনি সামাজিক বিচার পঞ্চায়েতের একজন নির্ভরশীল মানুষ হিসেবে সুনাম আছে। ব্যক্তিগত ভাবে তিনি সদালাপী ও সমাজকর্মী।

তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির মাধ্যমে আওয়ামিলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত।

তিনিও প্রার্থীতা জানান দিয়ে গ্রামে গঞ্জে সভা সমাবেশ চালিয়ে যাচ্ছেন।

বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কাশেম চৌধুরী তিনিও এবারও প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন। তিনি হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি হিসেবে বাড়তি সুবিধা পাবেন বলে অনেক নেতাকর্মীদের ধারণা। তিনিও রাতদিন প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন আবার তাঁকে ভোট দিয়ে পুনরায় মানুষের সেবা করার জন্য ভোট প্রার্থনা করছেন।
৬ ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে প্রার্থীদের প্রচারণা মাত্রা বেশ লক্ষ করা যাচ্ছে। দিনরাত তারা প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এবারের উপজেলা নির্বাচনে যদি বিএনপি অংশ গ্রহণ করত তা হলে সাধারণ ভোটারদের ধারণা  উপজেলায় আওয়ামীগের প্রার্থীরা কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তেন।
শোনা যাচ্ছে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ বশির আহমদ এবারও প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় ছিলেন, দলীয় সিদ্ধান্ত না পাওয়ায় তিনি মাঠে নেমে নামেননি।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফজলে নকিব রকিব মাখন’র নাম শোনা যাচ্ছিল। তবে বিএনপি এই নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবে না বলে দলীয় সিদ্ধান্ত নেয়ার এবার তাদের দলে আর কোন প্রার্থী নির্বাচন করবেন না।

তার সাথে আলাপকালে তিনি জানান, আমি দলীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ছিলাম, বিএনপি কেন্দ্রীয় ভাবে এই সরকারের অধীনে কোন প্রকার নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবে না বলে দলীয় সিদ্ধান্ত হয়। তাই আমরাও এই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছি।

অপরদিকে ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে একাধিক মনোনয়ন দাখিল করেছেন, বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান ফারুক আমিন সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান প্রিয়তোষ রঞ্জন দেব, কৃষ্ণ দেব, আশরাফ হোসেন খান সুমন, এস এম সুরুজ আলী ও আশিকুর রহমান।

পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে একাধিক প্রার্থী হওয়ায় প্রিয়তোষ রঞ্জন দেব ও আশরাফ হোসেন খান সুমনের মধ্যে লড়াইয়ে সম্ভবনা বেশি বলে অনেকেই ধারণা করছেন। আশরাফ হোসেন খান সুমন আমেরিকার প্রবাসী ক্লিন ইমেজের মানুষ। তিনি এবারের নির্বাচনে মানুষের আলোচনায় আছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বানিয়াচং উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তে কাজ করে যাচ্ছেন। একজন ক্রীড়াবিদ হিসেবে মানুষের কাছে বেশ পরিচিত তিনি।
এখন অপেক্ষার পালা কাকে বেচে নিবেন ভোটাররা।
মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান জাহেনারা আক্তার বিউটি, মুক্তা রানী দাস ও শিউলী রানী দাস মনোনয়ন দাখিল করেছেন।

মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে জাহেনারা আক্তার বিউটি অবস্থা ভাল বলে প্রায় ভোটারদের শোনা যাচ্ছে। তবে তানিয়া আক্তার প্রার্থী না হওয়ায় মুক্তা রানী দাসের  মধ্যে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে সাধারণ ভোটারদের ধারণা।
৬ ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন কে সামনে রেখে প্রার্থীদের প্রচারণা মাত্রা দিনদিন বেড়েই চলেছে। আগামী ২৩ তারিখ প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। তার আগে থেকে সব প্রার্থী বিরামহীন ভাবে মাঠে নেমে পড়েছেন।

বানিয়াচং উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে আওয়ামীগের মধ্যে কিছুটা বিভক্তি লক্ষ করা গেছে। এই নির্বাচনে দলীয় প্রতীক বা দলীয় প্রার্থী না থাকায় নেতাকর্মীরা বিপাকে পড়েছেন। অনেকেই সরাসরি প্রার্থীদের সাথে প্রকাশ্যে সভাসমাবেশ যোগদান করছেন আবার অনেকেই কৌশলে এড়িয়ে যাচ্ছেন। তবে অনেকের সাথে আলাপ কালে জানাযায়, তাদের দাবী জেলা নেতৃবৃন্দ সবাই কে নিয়ে একক প্রার্থী করলে তাদের সিদ্ধান্তহীনতা থেকে রক্ষা পাওয়া যেত।

তারা বিগত দিনের মত সরাসরি কাজ করতে পারবেন। অন্যথায় নেতাকর্মীরা দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়বেন। পাশাপাশি আওয়ামিলীগ একাধিক প্রার্থী হলে অন্যদিকে বিএনপি নির্বাচনে আসলে তাদের জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তাই তৃনমূল নেতাকর্মীদের দাবী ছিল একক প্রার্থী হলে তাদের জয়ী হওয়ায় সম্ভবনা ছিল।

তবে শেষ সময় বিএনপি উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বর্জন করায় আওয়ামীলীগ বনাম আওয়ামিলীগ এবারের প্রতিদ্বন্দ্বী।

যদি বিএনপি নির্বাচনে আসত তা হলে  আওয়ামীলীগের একাধিক প্রার্থীর সুবাদে  বিরোধীরা নির্বাচিত হওয়া সম্ভাবনা ছিল।

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রার্থী আমীর হোসেন মাস্টারের সাথে আলাপ কালে তিনি জানান, আমি দীর্ঘদিন আওয়ামিলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত আছি, আমার বয়স শেষ দিকে আমার পরবর্তীতে নির্বাচনের বয়সও নেই।  সারা জীবন না পাওয়ার রাজনীতি করে গেছি।

লোভ লালসার রাজনীতি ত্যাগ করেছি, বাবার  সম্পত্তির বিক্রি করে রাজনীতি করছি। জীবনে কোনদিন অনৈতিক সুবিধা নেইনি। এখন ভাল করে একটি বাড়ি বানাতে পারিনি। বাবার তৈরি ঘরে এখনও ঘুমাই। আমার জীবনে চাওয়া পাওয়ার আর কিছু নাই, শেষ বয়সে একটু সম্মান নিয়ে যেতে চাই। আশা করি আমার আবদার দলের নেতা কর্মীরা মূল্যায়ন করবেন। আমার জীবনে অনেক মানুষ কে নেতা বানিয়েছি। এমপি ও উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী যারাই হয়েছেন তাদের পাশে থেকে নিরলস ভাবে কাজ করে জয়ী করিয়েছি।  তাই জীবনের শেষ বয়সে আপনাদের এইটুকু দাবী। আশা করি আমার দলের নেতাকে ও  সম্মানিত ভোটাররা আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন।

সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন খানের সাথে আলাপ কালে তিনি দাবী করেন, আমি বিগত ৫ বছর সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেছি। মানুষের কল্যানে কাজ করেছি। লোভ লালসার উর্ধে থেকে জনসেবা করেছি। এবারও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সম্মানিত ভোটাররা আমাকে ভোট দিয়ে পুনরায় নির্বাচিত করবেন। আমি সাংবাদিক সহ সর্বস্তরের জনগণ ও নেতাকর্মীদের ভোট ও সহযোগিতা কামনা করছি।

বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কাশেম চৌধুরী তিনিও এবারের নির্বাচনে জয়ী হওয়ার ব্যাপারী আশাবাদী। তিনিও সকল শ্রেনীর জনসাধারণের ভোট ও সহযোগিতা কামনা করেন।

আজকের সর্বশেষ সব খবর